রবিবার ১৪ অগাস্ট ২০২২



নতুন করে প্লাবিত পঞ্চগড় শহর


আলোকিত সময় :
30.06.2022

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি আর ভারতের উজান থেকে আসা ঢলে পঞ্চগড়ের করতোয়া, মহানন্দা, তালমাসহ প্রায় সব নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। নদীর পানি দুই কূল ছাপিয়ে গতকাল বুধবার জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা ও নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়েছে।

পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সহস্রাধিক পরিবার।

লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলা এবং নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি আবার বিপত্সীমার ওপরে উঠেছে। এতে গতকাল লালমনিরহাটে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তাবেষ্টিত নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে থাকে গতকাল দুপুর থেকে। ফলে লালমনিরহাট ও ডিমলায় সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে আবার বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পঞ্চগড়ে অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। তবে রান্নার ব্যবস্থা না থাকায় বিপদে পড়েছে তারা। কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে পঞ্চগড় জেলায়। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে পঞ্চগড় জেলায়। এখন আস্তে আস্তে বৃষ্টিপাত কমবে।

উজানে ভারত থেকে আসা ঢলে পঞ্চগড়ের করতোয়াসহ বেশির ভাগ নদীতে মঙ্গলবার রাত থেকে অস্বাভাবিকভাবে পানি ও স্রোত বেড়ে যায়। বুধবার সকাল থেকে নদীর পানি বিপত্সীমার কাছাকাছি পৌঁছে। সেই সঙ্গে নদীর দুই কূল ছাপিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে জেলা শহরের কামাতপাড়া, ইসলামবাগ, রামেরডাঙ্গা, নিমনগর, খালপাড়া, কায়েতপাড়া, ডোকরোপাড়া, নতুন বস্তি খালপাড়া, তুলারডাঙ্গা, পৌর খালপাড়া, সদর উপজেলার হাড়িভাসা, রতনিবাড়ী, মাগুরা, ফুটকিবাড়ী এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জেলা শহরের করতোয়া কালেক্টরেট আদর্শ শিক্ষা নিকেতনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

পঞ্চগড় পৌর এলাকার নিমনগরের সুমন আলী বলেন, ‘বৃষ্টির পানিতে এক মাসেও নদী ভরতে পারবে না। মূলত ভারত যখন বাঁধ খুলে দেয়, তখনই নদীতে পানি বাড়ে আর আমরা পানিবন্দি হয়ে পড়ি। ঘরবাড়ি ডোবার চিন্তায় মঙ্গলবার সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। আমাদের ঘরবাড়ির অর্ধেক ডুবে আছে। এখনো রান্না হয়নি। চরম কষ্টে আছি। ’

রামেরডাঙ্গা এলাকার বৃদ্ধা তনজিনা বেগম বলেন, ‘আমার কেউ নেই। নদীর পারে বাড়ি করে থাকি। আমার বাড়ি নদীর পানিতে ডুবে গেছে। আমি ছাগলগুলো নিয়ে কোনোমতে জানাজাঘরে আশ্রয় নিয়েছি। রাত থেকে এখন পর্যন্ত (দুপুর ২টা) পেটে খাবার পড়েনি। ছাগলকেও কিছু খাওয়াতে পারিনি। কেউ আমাদের খোঁজখবর নিতে আসেনি। ’

পঞ্চগড় পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, পঞ্চগড়ের বেশির ভাগ নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতে। একযোগে এসব নদীতে পানি বাড়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। করতোয়া নদীর পানি বিপত্সীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। আমরা ধারণা করছি, শিগগিরই পানি আরো কমে যাবে। ’

জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে। পৌর এলাকার পানিবন্দি মানুষের জন্য ২০ টন চাল এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে দুই টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই তা পানিবন্দি মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে। ’



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি