রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • প্রচ্ছদ » আলোকিত জনপথ » হোয়াইক্যংয়ে ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র অপহরণ, ৫লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী,গভীর রাতে উদ্ধার



হোয়াইক্যংয়ে ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র অপহরণ, ৫লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী,গভীর রাতে উদ্ধার


আলোকিত সময় :
14.08.2022

মোঃআলমগীর আজিজ,টেকনাফ(কক্সবাজার)প্রতিনিধি :
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পশ্চিম মহেষখালীয়া পাড়া  ৯নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ নুরের স্ত্রী আজিজা বেগম অভিযোগের মাধ্যমে জানান, অপহরণকারীরা  সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ ও অন্যায় প্রকৃতির লোক । আমার ছেলে মোঃ আরিফুল ইসলাম(১০), আইডিয়াল একাডেমী কেজি এন্ড হাইস্কুলের স্ট্যান্ডার্ড ফোর এর ছাত্র।
আমার ছেলে আরিফুল ইসলামকে যারা
অপহরণ করেন তারা হলেন, হৃীলা ইউনিয়নের মরিচ্যা ঘোনা, ১নং ওয়ার্ডের কালা মিয়ার ছেলে সোনা মিয়া(২২), রিফাত(২০), কালা মিয়ার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম(৪৫), তছলিমা আক্তার (২৪)।
গত ১১আগস্ট২০২২ইং তারিখ সকাল ৮ঘটিকার সময় আমার ছেলে আরিফুল ইসলামকে আমার বাড়ী হইতে ১কিলোমিটার দক্ষিণে শাশুড়ির জন্য ফলমুল নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে পাঠিয়ে ছিলাম। আমার ছেলে বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় আমি খোঁজ খবর নিতে ৩নং বিবাদীকে ফোন করে ছেলের সংবাদ চাইলে সে সেখানে যায়নি বলে আমাকে জানায়। এরপরই আমি ছেলেকে খোঁজতে বাড়ি হতে বের হই। পথিমধ্যে ছোট ছোট ছেলের মুখে জানিতে পারি আমার ছেলে অপহরণকারী সোনা মিয়ার সাথে তার বাড়িতে গেছে। আমি তার বাড়িতে গিয়ে রুমে ঢুকলে বাড়িতে উপস্থিত সকলে হতভম্ব হয়ে যায়। সেখানে সকল অপরিচিত ৩জন ব্যক্তি উপস্থিত ছিল। তাদের গেইটে একটি সিএনজি দাঁড়ানো ছিল। আমি বাড়ি ঢুকে ছেলের খোঁজ না পেয়ে কান্না করলে আমার ছেলে অন্য একটি রুমের মধ্যে আটকানো অবস্থায় জোরে কান্না করে উঠে এবং আম্মু আমি এইখানে বলে ডাক দেয়। তখন আমি দরজাতে আঘাত করলে আমার ছেলে দরজা খুলে দেয়। তখন ৩/৪জন অপহরণকারী আমার চুলধরে টেনে ফেলে দিয়ে মারধর করে। কালার  মিয়ার ছেলে সোনা মিয়া, রিফাত সহ কাপড় টেনে হিচড়ে শীলনতা হানি করে। আমি অনেক চেষ্টা করে আমার ছেলেকে বুকে জড়িয়ে নিলে অপহরণকারীগণ আমার সাথে যাওয়া ছোট ছেলে রকিব(৭)কে সহ আমরা ৩জনকে রুমের মধ্যে আটকে রাখে এবং সোনা মিয়া  ৫,০০,০০০/-(পাঁচ লক্ষ)টাকা মুক্তিপন দাবী করে। মুক্তিপন না দিলে আমাদের অন্যত্রে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। মোবাইলের মাধ্যমে আমার পিতাকে খবর দিলে আমার পিতা ও ছোট ভাই সেখানে আসলে অপহরণকারীরা তাদের উপর চওড়া হয়। আমি রুম থেকে আমার পিতাকে পুলিশ এনে উদ্ধরের কথা বলি। অপহরণকারীরা হোয়াইক্যং ফাঁড়ির এস.আই জায়েদ হাসান আসার সংকেত শুনলে রাত ১টার দিকে আমাদেরকে অন্যত্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্ট করে। আমরা ঐ রুমে ভেতর থেকে দরজা লক করে রাখি। বাহিরে মানুষের আনাঘোনা থাকায় আমাদেরকে অন্যত্র নিতে সাহস পায়নি অপহরণকারীরা। রাত প্রায় ২টায় পুলিশ এসে রুমের ভিতর থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। পরের দিন আমি টেকনাফ সদর হাসপাতাল হতে প্রাথমিক চিকিৎসা করে সুস্থ হলে অদ্য থানায় এসে একখানা এজাহার দায়ের করি।
হৃীলা মৌলভীবাজার আইডিয়াল একাডেমী কেজি এন্ড হাইস্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ জামাল হোসাইন জানান, আরিফুল ইসলাম আমার বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র। আজ আমি শুনেছি। রাতে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করেছে বলে জানতে পারি। অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ জানান।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জায়েদ হাসান জানান, উদ্ধার ঘটনাটি সত্য। গভীর রাতে স্থানীয় মেম্বার বশির আহম্মদ সহ কালা মিয়ার বাড়ী হতে আজিজা এবং দুই ছেলেকে  আটক অবস্থায় উদ্ধার করে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ীতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আজিজার পিতা মির আহম্মদ কে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ  (ওসি) মোঃ হাফিজুর রহমান জানান,হোয়াইক্যং ইউনিয়নের অপহরণ  ঘটনার  বিষয়টি এজাহার পেয়েছি তদন্তপূর্বক অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি