রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২



গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের অবহেলায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী


আলোকিত সময় :
17.09.2022

মোঃ আশরাফুল হক, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ 

গাজীপুরের কালীগঞ্জে একটি পোল্ট্রি ফার্ম
পরিদর্শনে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ প্রমাণীত হওয়ার পরও দায়ী ফার্মের বিরুদ্ধে
আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের
বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দায়ী ফার্মের বিরুদ্ধে গাজীপুর পরিবেশ
অধিদপ্তরের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে অবহেলার কারণে তারা চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে
রয়েছেন।
জানা যায়, স্থানীয় ভুক্তভোগী মোছাঃ নাজমা বেগম গত ৪ আগষ্ট গাজীপুর জেলা
পরিবেশ অধিদপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে তিনি বলেন,
উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কাপাইস তেরমুখ বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত
মোহাম্মদ আলী দর্জি মেসার্স রাবেয়া আক্তার মিতু পোল্ট্রি ফার্ম পরিচালনা করছেন।
জনবসতিপূর্ণ এলাকায় লেয়ার পোল্ট্রি ফার্ম স্থাপন করায় মুরগীর বিষ্ঠাসহ অন্যান
বর্জ্য আবাদী জমির ফসল নষ্ট ও জলাশয়ের পানির দূষণ ঘটাচ্ছে। এছাড়াও বিষ্ঠা ও বর্জ্যরে
দূগর্ন্ধে এলাকায় বসবাস করা দূরহ হয়ে পড়ছে। শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিগণ শ্বাসকষ্ঠসহ
বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। দূর্গন্ধ এতটাই প্রকট যে, ফার্মের মালিক
নিজেও তার বাড়ীতে বসবাস না করে অন্যত্র বসতি স্থাপন করেছেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তর ফার্মটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে।
পরিদর্শনকালে ফার্মটি পরিবেশগত ছাড়পত্র ব্যতীত পরিচালিত হচ্ছে এবং বায়োগ্যাস
প্লান্ট তৈরী না করে মুরগীর বিষ্ঠা পাইপ লাইনের মাধ্যমে সরাসরি খালে নির্গত করে ও
ফার্মের সৃষ্ট দূর্গন্ধ দ্বারা পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি সাধন করছেন বলে প্রমানীত
হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ১২নং ধারা এবং
পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭ এর ৭(৪) উপবিধি অনুসারে প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার
পূর্বে অবস্থানগত ছাড়পত্র এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর পূর্বে পরিবেশগত ছাড়পত্র
গ্রহণ বাধ্যতামূলক। এর ব্যত্যয় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী
শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও ফার্মের মালিক আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে ফার্মটি
দীর্ঘদিন যাবত পরিচালনা করছেন। অধিদপ্তর পরিবেশ দূষণের সত্যতা পেয়ে গত ২৯ আগষ্ট
২২.০২.৩৩০০.১৩৮.৯৯.০৭৩.২২-১৩৭৯নং স্মারকে ফার্মের মালিক মোঃ আলী দর্জিকে
তিন কর্ম দিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু তারপরও ফার্মটি
অদৃশ্য কারণে সচল রয়েছে এবং প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে। ভুক্তভোগীরা পরিবেশ
অধিপ্তরে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার না পেয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের জেলা
প্রশাসক বরাবর আরো একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী নাজমা আরো জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর পরিদর্শণ করে অভিযোগের সত্যতা
পেয়েও অদৃশ্য কারণে এখনো পর্যন্ত ফার্মটির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
তাদের এ অবহেলায় আমরা ১০-১২টি পরিবার স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে বাধ্য
হচ্ছি।

এ বিষয়ে গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ নয়ন মিয়ার সাথে কথা বলার
জন্য গত বৃহস্পতিবার তাঁর অফিসে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অফিস থেকে বলা
হয় তিনি বিভাগীয় সমন্বয় সভার কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে শনিবার তাঁর
ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল করলে তিনি জানান, আমাদের কোন অবহেলা নেই। অবশ্যই
ফার্মটির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি