রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২



স্বর্ণপদক জয়ী কৃষক লেবু আনিচ’র ডাব উৎপাদনে


আলোকিত সময় :
20.09.2022

সঞ্জয় ব্যানার্জী, পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

কম জমিতে অধিক উৎপাদন ও বেশি লাভের চ্যালেঞ্জ নিয়ে পুষ্টি পানির ডাব উৎপাদনে
জাতীয় স্বর্ণপদক জয়ী কৃষক পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার কাজী আনিচুর
রহমান (লেবু আনিচ)। সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচন করতে ছোট জাতের নারিকেল
গাছের থোকায় শোভা পাচ্ছে রসালো ডাব।
উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামে লেবু চাষে সফলতার স্বীকৃতি
সরূপ কাজী আনিচুর রহমান ১৯৯১ সালে জাতীয় স্বর্ণপদক পাওয়ায় সবাই লেবু
আনিচ বলেই ডাকে। লেবু আনিচ ডাকায় নিজেকে সম্মানিতও বোধ করেন সফল
কৃষক আনিচুর রহমান। পরে ১৯৯৩ সালে লেবু ও আম্রপালি চাষে সফলতার জন্য যুব
উন্নয়ন মন্ত্রণালয় কর্তৃক সফল যুবক পুরষ্কার লাভ করেন। সর্বশেষ লেবু, আম্রপালি,
আমড়া ও কাঁচা নারিকেল (ডাব) উৎপাদানের জন্য বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ
অধিদপ্তর কর্তৃক ২০১৭ থেকে টানা চারবার শ্রেষ্ঠ কৃষক উপাধী লাভ করেন লেবু
আনিচ। শ্রেষ্ঠ কৃষক কাজী আনিচুর রহমান জানান, পুষ্টিকর ডাব উৎপাদন করে
চমক সৃষ্টি করতে চাই। কৃষি অফিস থেকে ১৫০টি চারা সংগ্রহ করে রোপন
করেছি। বর্তমানে ৪২টি গাছে ফল এসেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার হাট-বাজারে ৪০-৬০ টাকা প্রতিটি ডাব।
সকালে রাখা শতাধিক ডাব সন্ধ্যার আগেই বিক্রি হয়ে যায়। চাহিদার তালে ডাবের
উৎপাদন বাড়ছে। এরই মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ভিয়েতনাম থেকে আমদানী করা
উচ্চ ফলনশীল নারিকেল জাতের ফল।
প্রায় ৩বছর পূর্বে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ফ্রি ও টাকায় কিনে জাতীয়
পুরষ্কারপ্রাপ্ত কৃষক মোঃ সুলতান আহমেদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা)
ডাঃ সামসুন্নাহার ডলি, দশমিনা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট
ইকবাল মাহমুদ লিটন, এম.সাদি তালুকদার ও কাজী আনিচুর রহমান নারিকেল
বাগান সৃষ্টি করে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর
রহমান বলেন, ডাবের পানি চর্বিহীন পানীয়। উচ্চ মাত্রায় সোডিয়াম ক্লোরাইড
ও পটাশিয়াম থাকায় ডায়রিয়া রোগীর জন্য ডাবের পানি উপকারী। ডাবের পানির
কতিপয় ভিটামিন শারীরিক পুষ্টির যোগানের পাশাপাশি রূপচর্চায় বহুকাল ধরে
ডাবের পানির ব্যবহার রয়েছে। কিডনি সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের
পরামর্শ ছাড়া ডাবের পানি খাওয়া অুনচিত।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাফর হোসেন জানান, উফশী
ভিয়েতনামি নারিকেল গাছে ৩ বছরের মধ্যে ফল আসতে শুরু করে। আমাদের দেশীয়
জাতে ৭/৮ বছরের অধিক সময় অপেক্ষা করতে হয় কৃষককে। এজন্য ভিয়েতনামি
জাতের নারিকেল বাগান করা লাভজনক।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি