বুধবার ৭ ডিসেম্বর ২০২২
  • প্রচ্ছদ » আলোকিত জনপথ » ভাতার টাকা দিয়ে মাঠে টিউবওয়েল স্থাপন, রোহিতা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মেহেদি হাসান



ভাতার টাকা দিয়ে মাঠে টিউবওয়েল স্থাপন, রোহিতা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মেহেদি হাসান


আলোকিত সময় :
24.09.2022

উত্তম চক্রবর্তী,মণিরামপুর প্রতিনিধি :

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার এক নম্বর রোহিতা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাওয়া দুই মাসের ভাতার টাকা দিয়ে কৃষকদের জন্য মাঠে টিউবওয়েল স্থাপন করে দিয়েছেন মেহেদি হাসান নামে এক ইউপি সদস্য। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের নালেরকান্দা নামে একটি মাঠে টিউবওয়েলটি স্থাপন করেন। এতে মেম্বারের ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার ৫০০ টাকা। ২৮ বছর বয়সী শিক্ষিত যুবক মেহেদী হাসান গেল বছরের ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রোহিতা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রথম বারেরমত ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে টিউবওয়েল প্রতীকে তিনি ৬৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। নির্বাচনী ফলাফল সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে মামলা চলায় নির্বাচনের সাড়ে চারমাস পর গত ১৪ মার্চ ইউপি সদস্য হিসেবে শপথ নেন মেহেদী হাসান। এরপর ৫ মাস সরকারি অংশ বাদে পরিষদ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন তিনি। প্রথম তিন মাসের পরিষদের অংশের টাকায় তিনি পাড়ার ছেলেদের ৮টি ফুটবল, দুজন ক্যান্সারের রোগীর ওষুধ খরচ, মসজিদে অনুদান ও রাস্তা সংস্কার করেছেন। পরে গত দুমাসের টাকা দিয়ে কৃষকদের কষ্ট লাঘবে নিজের ওয়ার্ডের নালেরকান্দা মাঠে একটি টিউবওয়েল স্থাপন করেছেন। মাঠে টিউবওয়েল পেয়ে খুশি নালেরকান্দা গ্রামের কৃষক আকবার আলী। তিনি বলেন- এ যাবত যত মেম্বার হইয়েছে কেউ ভোটের পর খোঁজ রাখেনি। মেহেদীকে বলা মাত্রই যে কোন সহযোগিতা পাচ্ছি। রোদে মাঠে কাজ করার সময় খাওয়ার পানির কষ্ট ছিল। এখন আর তা হবে না। ভাত এনেও খাতি পারবো। মেহেদী হাসান ২০১৯ সালে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ব্যাবস্থাপনায় এমবিএ করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়ান। এরপর ইউপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১২ জন প্রার্থীকে হারিয়ে তিনি মেম্বর নির্বাচিত হন। মেহেদী হাসান বলেন- বিয়ে করিনি। বাবা সংসার চালান। এই বয়সে ওয়ার্ডবাসী ভোট দিয়ে আমাকে পাশ করিয়েছেন। সবকিছু তাঁদের জন্য করবো। ইউনিয়ন পরিষদের সব ভাতার টাকা ওয়ার্ডবাসীর কল্যাণে ব্যায় করবো। কখনও যদি দায়িত্বে না থাকি ওয়ার্ডের লোকজন যেন আমার অভাব অনুভব করে। সে কাজ করে যেতে চাই।


এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি