বুধবার ৭ ডিসেম্বর ২০২২



৮ হাজার ২৬১ কিলোমিটার দূরে যুদ্ধ, উত্তাপ দেশে


আলোকিত সময় :
02.11.2022

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ক্রিকেটে এখনও বাংলাদেশ-ভারত মানেই বাড়তি উম্মাদনা। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজে দু’দলের মধ্যে রোমাঞ্চকর ম্যাচ উপভোগ করেছে দর্শকরা। আর আইসিসির টুর্নামেন্ট হলে তো কথাই নেই! ম্যাচের আগে কথার উত্তাপ, জল্পনা-কল্পনা আরও কত কী। ২২ গজেও তাই দুই পড়শির যুদ্ধটা জমে বেশ। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৮ হাজার ২৬১ কিলোমিটার দূরের মঞ্চ অ্যাডিলেড। ভারত থেকে এর চেয়ে বেশি দূর। এত দূরের সেই তাসমান সাগরের পাড়ে যখন ব্যাট-বলের লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ ও ভারত। তখন পদ্মা আর গঙ্গার মতোই এই অঞ্চলের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে উঠবে উথাল-পাতাল ঢেউ। যে ঢেউয়ে কেউ ভাসাবে আশার তরী, কেউ আবার হতাশার ভেলা। আবার হার-জিতের পরও চলবে কথার খেলা। আর ম্যাচে যদি আম্পায়ার কোনো কারণে ভুল সিদ্ধান্ত গিলেন, তাহলে উঠবে সমালোচনার ঝড়। যে ঝড় থামতে হয়তো লেগে যাবে আরও কয়েক দিন।

অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়ার মতো সাকিবের মনের অবস্থাও সুপার টোয়েলভের খেলা শুরুর আগে থেকে খুব ঘন ঘন পরিবর্তন হচ্ছে। কখনও তাঁকে খুব হাসিখুশি দেখা যায়, আবার বিরক্তিতে মুখ ভার। সংবাদ সম্মেলনে সহজ প্রশ্নের উত্তরও বাঁকা করে দেন তখন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্বকাপে এটাও সাকিবের একটা কৌশল। কখনও নিজেকে চাঙা করতে, কখনও সতীর্থদের আগলে রাখতে রং বদলান তিনি। একাদশ গোপন রাখা, দলীয় পরিকল্পনা চেপে যাওয়া, প্রতিপক্ষকে নিয়ে মনস্তাত্ত্বিক গেম খেলা- বাংলাদেশ দলের ভেতর অন্যরকম আবহ এনে দিয়েছে। যে কারণে খোলা মন নিয়ে ম্যাচ খেলতে পারছেন ক্রিকেটাররা। অ্যাডিলেডে ভারত, পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ দুটি ম্যাচেও স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে চান তাঁরা। যেখানে টিম বাংলাদেশের স্লোগান ভালো ক্রিকেট খেলা। সেটা সম্ভব হবে স্মার্ট ব্যাটিং করা গেলে।

যে অর্থে ভালো ক্রিকেট খেলার কথা বলা হচ্ছে, গত তিন ম্যাচে সেটা পুরোপুরি দেখা যায়নি। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যাটিং ব্যর্থতা বড় হয়ে ধরা দিয়েছে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আফিফ হোসেনের ৩৮ রানের ক্যামিও ইনিংস, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নাজমুল হোসেন শান্তর হাফ সেঞ্চুরি (৭১) প্রাপ্তির তালিকায় লেখা হলেও বাকিরা এখনও সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি। সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, নুরুল হাসান সোহানের মতো অধিনায়ক নিজেও রান করতে পারেননি। খাপছাড়া এমন ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে বড় স্কোর করা সত্যিই কঠিন। কিন্তু ভারতের মতো সাবেক চ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে বড় স্কোর না হলে ম্যাচ জেতাও কঠিন। বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে ১৬০ থেকে ১৭০ রানের যে টার্গেটের কথা বলা হচ্ছে, সেটাও হচ্ছে না। সাকিব আশাবাদী আজ ভারতের বিপক্ষে ওই রান করতে পারবেন, ‘আমার কাছে মনে হয় ভারতীয় দলে খুবই ভালো একটা বোলিং অ্যাটাক রয়েছে। প্রতি ম্যাচেই ১৬০-১৭০ রানের মধ্যে প্রতিটি দলকে বেঁধে রাখতে পারছে তারা। এর মানে খুবই ভালো বোলিং করছে। আমাদের অবশ্যই খুবই ভালো ব্যাটিং করতে হবে, ১৬০ বা ১৭০ রান করতে গেলে। আমার কাছে মনে হয়, ভারতের বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে আমাদের ভালো করতে হবে। কেননা তাদের বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে।’
ব্রিসবেনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারতে হারতে জিতে গেছে বাংলাদেশ। শেষ বলের নাটকীয়তায় তিন রানে জিতেছেন সাকিবরা। তবে উত্তেজনার পারদ উঠানামার মধ্য দিয়ে ম্যাচটি বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল। অ্যাডিলেডেও ভারতের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর একটি ম্যাচ সমর্থকদের উপহার দিতে চান সাকিব, ‘ভালো একটা ম্যাচ হলে অবশ্যই দর্শকদের জন্য ভালো হবে। শেষ ম্যাচটি দর্শকদের জন্য ভালো ছিল। ওরকমই একটা ম্যাচ যেন উপহার দিতে পারি।’ সাকিবের দৃষ্টিতে শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা ছড়িয়ে জেতা ম্যাচগুলো বেশি উপভোগ্য থাকে। এ ধরনের ম্যাচ হলে খেলোয়াড়দেরও শেখার থাকে। সাকিবের মতে, ‘টি২০ খেলা যেহেতু অল্প সময়ের, তাই প্রতিযোগিতা বেশি থাকে। এখানে ক্লোজ ম্যাচই বেশি হবে। ওই পরিস্থিতিতে নার্ভ ধরে রাখতে পারাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগে যেটা হচ্ছিল ক্লোজ ম্যাচগুলো হেরে যাচ্ছিলাম। সেখান থেকে আমরা এখন ঘুরে দাঁড়ানো শিখছি, বলব না শিখে গেছি। তবে উন্নতি আছে।’ এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাও অনেকাংশে নির্ভর করে কন্ডিশনের ওপর। হোবার্টের মতো অ্যাডিলেডেও যে কনকনে ঠান্ডা হাওয়ায় মানিয়ে নিয়ে খেলতে হবে সাকিবদের। শুভ কামনা রইল।


এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি