বুধবার ৭ ডিসেম্বর ২০২২



টক শোর দুর্ভিক্ষ ও বাস্তবের দুর্ভিক্ষ


আলোকিত সময় :
13.11.2022

আবদুল মান্নান, গবেষক ও বিশ্লেষক :

বাংলাদেশে টেলিভিশনের টক শো বেশ জনপ্রিয় একটি অনুষ্ঠান। কখনো বিনোদনমূলক আবার কখনো বা বেশ বিরক্তিকর। আর এটি ধরে নেওয়া যায় এসব শোর আলোচকরা যখন কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হন, তাঁরা সব সময় একই বিষয় নিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী কথা বলেন। কয়েক দিন আগে একটি জনপ্রিয় টক শোর বিষয় ছিল ২০১৩-২০১৫ সালের জামায়াত-বিএনপির আগুনসন্ত্রাস।

অনুষ্ঠানে যিনি বিএনপির মুখপাত্র ছিলেন, তিনি এই সেদিনের ঘটনা বেমালুম চেপে গেলেন। শুধু বলতে বাকি রেখেছেন কই এমন কোনো কিছু তো এই দেশে হয়নি। এই ভদ্রলোক একসময় ছাত্রলীগের একজন ডাকসাইটে নেতা ছিলেন। এখন বিএনপির একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখপাত্র।

যেহেতু আমি নিজেও মাঝেমধ্যে এমন কিছু অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি, সেই কারণে এ নিয়ে দু-একটি কথা বলতে পারি। বর্তমান সময় বিএনপি নামের দলটি রাজপথে বেশ সরব। পারলে কালই তারা বাংলাদেশের শাসনক্ষমতা দখল করে। অবশ্য বিএনপির এক শীর্ষ নেতা তো বলেই দিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের ১০ তারিখ থেকে দেশ চালাবেন খালেদা জিয়া আর তারেক রহমান। অবশ্য তা কিভাবে হবে তা তাঁরা এখনো পরিষ্কার করেননি। অপেক্ষা করতে হবে। একজন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা, বর্তমানে একটি ওয়ানম্যান পার্টির সভাপতি, তিনি প্রতিদিন টোকা দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। রাজনীতিকে তিনি ক্যারম খেলার পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন।

আমি টক শোর পোস্টমর্টেম করতে বসিনি। তবে কিছু প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী হয়েছি। কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের এক দলীয় সভায় নির্দেশনা দিয়েছেন, কেউ যদি টক শোতে অংশগ্রহণ করেন, তিনি যেন একটু লেখাপড়া করে প্রস্তুতি নিয়ে যান। আজকাল মানুষ অনেক বেশি সচেতন। যুগটা তথ্য-প্রযুক্তির যুগ। বোঝা যায়, প্রধানমন্ত্রী কোনো কোনো টক শো বা টিভির আলোচনা অনুষ্ঠান দেখেন এবং এটাও জানতে পারেন, তাঁর সরকার বা দলের হয়ে যাঁরা কথা বলতে যান, তাঁরা সবাই সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে যান না। বর্তমান সময়ে এসব টক শো বা আলোচনাসভায় সরকারকে ঘায়েল করার যে কয়েকটি বিষয় নিয়ে বিরোধী পক্ষ চেষ্টা করে, তার অন্যতম হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের ঘাটতি আর ২০২৩ সাল নাগাদ দেশে খাদ্যঘাটতি বা দুর্ভিক্ষ অবস্থা বিরাজ করতে পারে সে সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর আগাম সতর্কবার্তা। প্রসঙ্গে টেনে এনে বিরোধী শিবিরের পণ্ডিতজনরা বলেন, দেশ নাকি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, তাহলে প্রধানমন্ত্রী কেন দুর্ভিক্ষের কথা বলেন? প্রধানমন্ত্রী তো এ কথা নিজ থেকে আবিষ্কার করেননি। এই আগাম বার্তাটি এসেছে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা আর ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার সংস্থা (ফাউ) থেকে। তারাই আগাম বার্তা দিয়েছে গত সেপ্টেম্বর মাসে। ২০২৩ সালে নানা কারণে বিশ্বে শুধু অর্থনৈতিক মন্দাই দেখা দেবে না, বিভিন্ন দেশে খাদ্যঘাটতিসহ নানা সমস্যা দেখা দেবে, যা মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলবে। যেসব দেশে খাদ্যঘাটতি দুর্ভিক্ষে রূপ নিতে পারে, এসব সংস্থা এরই মধ্যে তার একটা সম্ভাব্য তালিকা প্রকাশ করেছে, যার বেশির ভাগই আফ্রিকার দেশ। এশীয় দেশগুলোর মধ্যে আছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।

খাদ্যঘাটতি ও দুর্ভিক্ষ এক কথা নয়। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই বঙ্গে দুবার দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। প্রথমটা পলাশীর যুদ্ধের পর ১৭৬৯-১৭৭০ সময়কালে। তখন পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর বঙ্গে দ্বৈত শাসন চালু হলো। একদিকে কিছু এলাকায় ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি আর অন্যদিকে মীরজাফরের শাসন। বঙ্গে দেখা দিল প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর গুটিবসন্তের মহামারি। সেদিকে নজর দেওয়ার কারো গরজ নেই। তখন উভয় পক্ষ মসনদ দখলে রাখতে ব্যস্ত। অন্যদিকে মানুষ না খেয়ে মরছে। ঐতিহাসিকদের হিসাব মতে, সেই দুর্ভিক্ষে তিন কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তখন বঙ্গের সীমানা বিস্তৃত ছিল বিহার ও ওড়িশার কিছু অংশে।

বঙ্গের দ্বিতীয় দুর্ভিক্ষটি হয় ১৯৪৩ সালে, তখন বিশ্বযুদ্ধ চলছে। এই দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়েছে পর্যাপ্ত। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী চার্চিল হুকুম দিলেন এই খাদ্যশস্য বাংলার মানুষের কাছে বিক্রি করা যাবে না, তা যাবে ইউরোপে বা অন্যান্য দেশে, যেখানে ইংরেজ বাহিনী হিটলার বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করছে। দেশে দেখা দিল দুর্ভিক্ষ। না খেয়ে মারা গেল ৩০ লাখ বঙ্গসন্তান। দায় সম্পূর্ণভাবে চার্চিলের। তাঁকে বলা হয় একজন নীরব ঘাতক।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশে দেশে বিভিন্ন সময় দুর্ভিক্ষ বা ভয়াবহ খাদ্যঘাটতি হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও বাদ যায়নি। ১৯৩০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয়। বেকার হয়ে পড়ে লাখ লাখ মানুষ। অন্যদিকে যেসব অঙ্গরাজ্যে ভালো ফসল ফলত, সেগুলোতে পর পর কয়েক বছর দেখা দেয় অনাবৃষ্টি। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শুরু হয় মারাত্মক খাদ্যঘাটতি আর দুর্ভিক্ষ। মানুষের হাতে টাকাও নেই, বাজারে খাদ্যও নেই। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন জায়গায় খোলা হয় লঙ্গরখানা। অনেক বাড়ির সামনে বড় বড় অক্ষরে লেখা হয় ‘এই বাড়ির চারজন বাচ্চা বিক্রি হবে। ’ শুধু প্রাকৃতিক কারণে খাদ্যঘাটতি বা দুর্ভিক্ষ হয় তা কিন্তু নয়। যুদ্ধ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেও দুর্ভিক্ষ হয়, যেমনটি এই মুহূর্তে হচ্ছে আফ্রিকার অনেক দেশে। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে যে খাদ্যঘাটতি দেখা দিয়েছিল তার জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো দায়ী ছিলই, সঙ্গে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিক্সন প্রশাসনের মানবতাবিরোধীভাবে বাংলাদেশকে নানাভাবে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা। কারণ বাংলাদেশ তাদের অতি প্রিয় পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন হয়েছিল। দেশে যখন পর পর তিনটি ফসল বন্যার কারণে নষ্ট হয়ে গেল তখন বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়েক হাজার টন চাল আর গম সাহায্য পেয়েছিল। সেই খাদ্যশস্যবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ার আগে নিক্সন প্রশাসনের নির্দেশে আবার ফিরে যায়। নিক্সন প্রশাসন খাদ্যকে বাংলাদেশকে শায়েস্তা করার জন্য অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল।

এই মুহূর্তে ব্রিটেনে খাদ্যঘাটতি ও লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির কারণে বিক্ষোভ হচ্ছে। সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতিতে আছে সেই দেশের শিশুরা। সম্প্রতি (১৮ সেপ্টেম্বর) সে দেশের গার্ডিয়ান পত্রিকা খবর দিয়েছে ব্রিটেনের লাখ মানুষ এক বেলা না খেয়ে থাকছে, আর সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় পড়েছে শিশুরা। অর্থ খরচ করলেও তাদের খাদ্য পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক মাস আগে শিশুখাদ্য জোগান প্রায় বন্ধ হয়ে গেলে নিউ ইয়র্কে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। তা ছড়িয়ে পড়ছে পুরো ইউরোপে। জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে ইউরোপের প্রায় সব শহরে সন্ধ্যার পর রাস্তার বাতি জ্বলে না। অনেক শহরে ট্রাফিক সিগন্যালের বাতিও বন্ধ। রাশিয়া ও ইউক্রেন বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ গম সরবরাহ করে। যুদ্ধের কারণে তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত। ইউরোপের ৪০ শতাংশ গ্যাস রাশিয়া থেকে আসে। এর মধ্যে জার্মানির মোট গ্যাসের চাহিদার ৮০ শতাংশ মেটায় রাশিয়া। রাশিয়া ইউরোপের সব ন্যাটোভুক্ত দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে বা কমিয়ে দিয়েছে। এরই মধ্যে ইউরোপের সব দেশে এই শীতের সময় গরম পানি দিয়ে স্নান করা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, বাড়ির হিটিং অর্ধেকে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শীতে ইউরোপে ঠাণ্ডার মাত্রা কোনো কোনো দেশে হিমাঙ্কের ১৫-২০ ডিগ্রি নিচে পর্যন্ত নেমে আসে। গত রবিবার থেকে ভিয়েতনামের প্রায় সব পেট্রল পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। সব ধরনের জ্বালানির মজুদ শেষ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপে নতুন করে মানুষ বেকার হচ্ছে, বাড়ছে মুদ্রাস্ফীতি। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডই হয়ে উঠছে তাদের একমাত্র ভরসা।

এবার আসি বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষ নিয়ে আলোচনায়। এই বঙ্গে বা বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ বা খাদ্যঘাটতির ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সবই ছিল মানবসৃষ্ট। আগামী দিনে বাংলাদেশেও হয়তো অন্যান্য দেশের মতো খাদ্যেও মূল্যস্ফীতি বাড়বে, কিন্তু সৃষ্টিকর্তার কৃপায় দুর্ভিক্ষ হবে না। এবার আমন ফসলটা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে না পড়লে বাংলাদেশের খাদ্য পরিস্থিতি অনেক পাল্টে যাবে। এই মৌসুমে রেকর্ড ১৩ লাখ টন ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, এ বছর দেশে ১.৬৩ কোটি টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা আছে, যদি প্রকৃতি একটু সদয় থাকে।

প্রধানমন্ত্রী শুধু জনগণকে আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন। এটি তাঁর দায়িত্ব। বাংলাদেশের মৌলিক খাদ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ বা তার বেশি দেশে উৎপাদিত হয়। এই উৎপাদনব্যবস্থাকে সব ধরনের সহায়তা দিতে হবে। দরকার হলে অপ্রয়োজনীয় বিলাসদ্রব্যের ওপর শুল্ক বা কর বাড়িয়ে কৃষিক্ষেত্রে ভর্তুকি বাড়াতে হবে। সরবরাহব্যবস্থা সহজ করা ছাড়াও অসাধু ব্যবসায়ীদের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। টিসিবির নেটওয়ার্ক আরো কয়েক গুণ বাড়ানো দরকার। প্রয়োজনে রেশন ব্যবস্থা চালু হোক। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব সরকারি কর্মকর্তার সরকারি খরচে বিদেশ ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১৯৭৩ সালে যখন ৪৫০ টাকা বেতনে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দিই তখন বঙ্গবন্ধুর বদান্যতায় সব শিক্ষক, কর্মকর্তাকে ১৫ দিন অন্তর দুই সের গম আর আধা সের চিনি দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল। এখন তো তাঁরই কন্যা সরকারপ্রধান। পিতা সেই কঠিন সময় পার করতে পারলে কন্যাও পারবেন। শুধু অদক্ষ আমলাতন্ত্র থেকে সাবধান থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা যদি বাসে চড়ে কর্মক্ষেত্রে যেতে পারেন, সব পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা কেন নয়?

টিভির সরকারবিরোধী আলোচকরা প্রায় বলে থাকেন দেশের সরকারের ওপর আস্থা নেই বলে বিদেশ থেকে টাকা আসা কমে গেছে। আসল কারণ হচ্ছে, বিদেশে যাঁরা পরিশ্রম করে দেশে টাকা পাঠান তাঁদের ব্যয়ও সেই সব দেশে বেড়ে গেছে। তাঁদের হাতে দেশে পাঠানোর অর্থের পরিমাণও কমে গেছে। তার ওপর আছে হুন্ডির দাপট, যা দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া আর লন্ডনে অনেকটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। সহায়তা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভ্রান্তনীতি। প্রথমে বলা হলো ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে দেশে টাকা পাঠালে ডলারপ্রতি ৯৯ টাকা পাওয়া যাবে। হুন্ডিওয়ালারা জানিয়ে দিল তারা ১০৫ টাকা বা তার বেশি দেবে। অনেক ক্ষতি হয়ে যাওয়ার পর টনক নড়ল বাংলাদেশ ব্যাংকের। এখন ১০৭ টাকা পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও একজন আমলা। বিদেশে এসব অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত (ডলারে ৯৯ টাকা, সারচার্জ), এসব বিষয় নিয়ে সরকারবিরোধীরা তো রীতিমতো ঈদের আনন্দে প্রচার চালিয়েছে।

এক শ্রেণির গণমাধ্যমের ভূমিকা না বললেই নয়। কোনো কোনো বহুল প্রচারিত প্রিন্ট মিডিয়া পড়লে মনে হয়, বাংলাদেশে ‘কেয়ামত নজদিক’। একটি পাঠকপ্রিয় অর্থনীতিবিষয়ক পত্রিকা প্রথম পৃষ্ঠায় খবরের শিরোনাম করল ‘২০ ব্যাংকের কাছে দায় মেটানোর ডলার নেই। ’ আর যায় কোথায়! যাঁরা শেখ হাসিনাকে কালই ক্ষমতাচ্যুত করতে বদ্ধপরিকর, তাঁদের খেলা শুরু হলো। ‘শেখ হাসিনা ব্যাংকের সব ডলার খেয়ে ফেলেছে। টাকা ব্যাংকে থাকলে তা তুলে নিজের কাছে রাখুন। ’ প্যারিসে এক ব্যক্তি তো এই সংবাদকে রীতিমতো পোস্টার বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। সব জায়গায় পেশাদারির আকাল। গণমাধ্যমও বাদ যাবে কেন!

সব শেষে বলি, যাঁরা সরকারের পক্ষে টিভিতে কথা বলতে যান তাঁরা একটু দেশ-বিদেশের খবর রাখুন। টিভির পর্দায় চেহারা দেখিয়ে ‘মিউ মিউ’ করলে লাভ অন্য পক্ষের।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি