শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • প্রচ্ছদ » Lead » নতুন নতুন বিষয়ের বইয়ে মেলা হয়ে উঠেছে প্রাণময়, খুশি প্রকাশকরা



নতুন নতুন বিষয়ের বইয়ে মেলা হয়ে উঠেছে প্রাণময়, খুশি প্রকাশকরা


আলোকিত সময় :
08.02.2023

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সাত দিন পেরিয়ে এলো বইমেলা। এই সাত দিনের বিক্রি ও পাঠকের আগ্রহ দেখে খুশি প্রকাশকরা। বিক্রি হচ্ছে, নতুন নতুন বিষয়ের বইয়ে মেলা হয়ে উঠেছে প্রাণময়। বাংলাদেশের মানুষ এক অনিন্দ্যসুন্দর বই উত্সবে মুখর হয়ে উঠেছে। জীবনের নানা টানাপড়েন, ব্যস্ততার পরেও বাঙালির কাছে বইমেলার আবেদন ফুরোয় না। বরং সময়ের সঙ্গে নানা মাত্রায় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে।

মেলায় পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের প্যাভিলিয়নে কথা হয় কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, বইমেলা নিয়ে এবং পাঠকদের নিয়ে বিশেষ করে তরুণ পাঠকদের নিয়ে একটা বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। বলা হয়, তরুণরা বই পড়ে না। আমি কিন্তু এর উলটো চিত্রই দেখি। এখন বই বিক্রি বহু গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বইমেলার শুরুর সময়ের যে কথা সিনিয়র লেখকদের মুখে শুনি, তাতে বোঝা যায়, আগে প্রকাশক খুব কম ছিল। বইও প্রকাশ পেত কম। এমন কথাও শুনি, লেখকরাই বইমেলা মাঠে টেবিল বিছিয়ে নিজের বই বিক্রি করেছেন। এখন সেই পরিস্থিতি তো নেই। একেবারেই বদলে গেছে। অনেক প্রফেশনাল ও আধুনিক মানের বই প্রকাশ পাচ্ছে। সেসব বই বিক্রিও হচ্ছে। দর্শন, সাহিত্য, কবিতার বাইরে নানা বিষয়ে এখনকার তরুণরা আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সেসব বই বিক্রি হচ্ছে। আমাদের মেলা দিগন্তবিস্তারী হয়ে উঠেছে।

সত্যিই তাই, প্রতি বছরই মেলায় প্রকাশনাপ্রতিষ্ঠান বাড়ছে। বাংলা একাডেমির গণ্ডি পেরিয়ে মেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল অংশ জুড়ে আয়োজন করা হয়েছে। একেকটি প্রকাশনীর এত এত বই যে প্যাভিলিয়ন করেও সেখানে বইয়ের স্থানসংকুলান করা যাচ্ছে না।

boimela

বইমেলায় পাইরেটেড বই বিক্রির জন্য রাবেয়া বুক হাউজ ও গ্রন্থ প্রকাশ দুটি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করার সুপারিশ করেছে অমর একুশে বইমেলার টাস্কফোর্স। পরে বইমেলা কমিটি স্টল দুটিকে বন্ধ করে দিয়েছে। এদিকে, টাস্কফোর্স আরো সাতটি প্রতিষ্ঠানকে বইমেলা নীতিবহির্ভূত বই বিক্রির জন্য সাবধান করেছে। পরবর্তী অভিযানে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে টাস্কফোর্সের সভাপতি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অসীম কুমার দে। তিনি  জানান, বইমেলাকে সুশৃঙ্খল ও প্রকাশকদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখতে নিয়মিত টাস্কফোর্সের অভিযান চলবে। সতর্ক করে দেওয়া সাতটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে—মা সেরা, জ্ঞান বিতান, মৌ প্রকাশনী, বঙ্গজ প্রকাশন, গাজী প্রকাশনী, মেধা পাবলিকেশন্স, দেশজ।

এদিকে, বইমেলার নীতি লঙ্ঘন করে প্যাভিলিয়ন নির্মাণের জন্য তিন প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছে বইমেলা পরিচালনা কমিটি। এ তিনটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মিজান পাবলিশার্স, আকাশ ও প্রথমা। এর মধ্যে মিজান পাবলিশার্স নীতিমালা ভঙ্গ করে তার প্যাভিলিয়ন প্রায় ১০ ফুট উঁচু করেছে। আকাশ প্রকাশনী ছন দিয়ে প্যাভিলিয়ন নির্মাণ করেছে, যা নীতিমালার লঙ্ঘন। কারণ, বইমেলায় একাধিকবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটায় ছন দিয়ে স্টল নির্মাণ বন্ধ করা হয়েছে। আর প্রথমা প্রকাশন তাদের স্টল পাশে ১০ ফুট বৃদ্ধি করেছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির পরিচালক নেছার উদ্দীন আয়ূব বলেন, যে তিনটি প্রতিষ্ঠান বইমেলার নীতি লঙ্ঘন করে প্যাভিলিয়ন নির্মাণ করেছেন তারা প্রত্যেকেই নামি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। তারা যদি নিয়ম না মানেন, তাহলে বইমেলার শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হবে। আমরা আশা করব, তারা নিজেরাই তাদের ত্রুটি সংশোধন করে নেবেন।

এদিকে, গতকাল মেলায় বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির অফিস উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমিতির উপদেষ্টা ওসমান গনি, সহসভাপতি মাজহারুল ইসলাম, শ্যামল পাল প্রমুখ।

নতুন বই :সাত দিনে মেলায় মোট বই এসেছে ৫২৮টি। গতকাল মেলায় বই এসেছে ১০৪টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—অনুপম এনেছে সুব্রত বড়ুয়ার ‘দস্তয়েভস্কি জীবনকথা’, সৌমেন সাহার ‘যতো কাণ্ড গণিত নিয়ে’, কথাপ্রকাশ এনেছে আফসান চৌধুরী সম্পাদিত ‘১৯৭১ পাকিস্তান প্রসঙ্গ’, অন্যপ্রকাশ এনেছে লত্ফুন্নাহার পিকির ‘সব বর্ষা কদমের নয়’, সময় প্রকাশন এনেছে সারওয়ার-উল-ইসলামের ‘নদীর নাম ঘুঙুর’, অবসর এনেছে শম্পা হাসনাইনের ‘না-পুরুষ’ প্রভৃতি।

মেলামঞ্চে অনুষ্ঠান :মঙ্গলবার বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ :মাহবুব তালুকদার এবং আলী ইমাম শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গাজী রহমান ও আহমাদ মাযহার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. নিমাই মণ্ডল, আমীরুল ইসলাম এবং ওমর কায়সার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদুর রেজা সাগর।

লেখক বলছি—অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন আবুল কাসেম, সাকিরা পারভীন, জালাল ফিরোজ এবং পলাশ মাহবুব। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি জাহিদুল হক, গোলাম কিবরিয়া পিনু এবং ইউসুফ রেজা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী কাজী মাহতাব সুমন, নায়লা তারান্নুম চৌধুরী এবং সংগীতা চৌধুরী। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী তপন মজুমদার, মনোতোষ চক্রবর্তী, শামসেল হক চিশতি, এ এইচ এম সালাউদ্দিন, অণিমা মুক্তি গোমেজ, মো. মোখলেসুর রহমান এবং মো. মুরাদ হোসেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি