শনিবার ১৩ এপ্রিল ২০২৪



একজন রজৎ শুভ্র’র সঙ্গীত ভাবনা


আলোকিত সময় :
17.05.2023

বিনোদন প্রতিবেদক :

শৈশবে প্রতিদিন ভোরের আলো ফোঁটার আগে থেকেই বাবার সঙ্গীত
অনুশীলনের শব্দ ও সুরের মূর্ছনায় ঘুম ভাঙতো। কখনো ভৈরব, ভৈরবী,
ভুপালী আরো কত রাগের খেয়াল, ঠুমরী কখনো আবার সাধুজনের আগমনে
বাউল গানের আসর কিংবা উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের লহরা’র আবেশে কেটে
গেছে কত সকাল, দুপুর সন্ধ্যাবেলা। গান শুনতে শুনতে মোহিত হয়ে
পড়তাম। ভাবতাম, আহা কি দরদভরা মধুমাখা কন্ঠ। বাদ যেতো না কোন
গান। লালন, বিজয়, বাউল আরো কত কি গান। গান শুনতাম আর ভাবতাম,
আমিও যদি বাবার মত করে গাইতে পারতাম। কিন্তু বাবা কখনোই
চাইতেন না যে, তার সন্তানরা গানের জগতে আসুক। সবসময় বলতেন,
‘আগে পড়াশুনা করে মানুষের মত মানুষ হও, গানটা পরেও শিখতে পারবে।
এখন গান শিখে সময় নষ্ট না করলে পড়ালেখা হবে না।’ বাবার কথায় তখন
ভীষণ মন খারাপ হতো। সেসময় বাড়িতে একজন সঙ্গীতের শিক্ষক আমার
ছোট বোনকে গান শেখাতে আসতেন। আমি আড়াল থেকে লক্ষ্য রাখতাম
মাষ্টার মশায় কিভাবে শেখায়, স্বরলিপিগুলো কিভাবে বাজায়, কিভাবে সুর
আরোপ করে ইত্যাদি। বাবাকে গান শেখানোর কথা বললে নানা অজুহাতে
এড়িয়ে যেতেন।
তখন নানাজনের কাছে থেকে ও ক্যাসেট প্লেয়ারে গান শুনে অবিকল
গাওয়ার চেষ্টা করি। সুযোগ পেলেই স্কুলের বিভিন্ন সঙ্গীত
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতাম। এভাবেই চেষ্টা করতে করতে
যেকোন গান অবিকল ঐ শিল্পীর মত করে গাইতে পারতাম।
সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ দেখে একদিন বাবা আমাকে ডেকে বললেন,
“ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার পর তোমাকে আমি গান শেখাবো।” অবশেষে
অপেক্ষার পালা একদিন শেষ হলো। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার পর বাবা ডেকে
বললেন, “কাল তোমার সঙ্গীতের হাতেখড়ি।” শুরু হলো আমার জীবনের
নতুন অধ্যায়। স্বরলিপি, রাগ-ঠাট, খেয়াল, তাল, লয় ইত্যাদি সম্পর্কে আজ
যতটুকুই জানি তার পুরোটাই আমার বাবার অবদান এবং তাঁরই
আশির্বাদ।

এছাড়া গুরু সুরুজ দাশ গোপাল, গুরু শ্রী গৌরাঙ্গ আদিত্য, বাউল গুরু
পাগলা বাবলু, গুরু অলক দাশগুপ্তের মতো গুণিজনের সান্নিধ্য পেয়েছি
এবং অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করেছি ।
এজন্যে আমি আমার বাবা ও সঙ্গীত গুরুদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আজ
বাবা নেই তবুও তাঁর শিক্ষা ও আশির্বাদকে পাথেয় করে পথ চলার চেষ্টা
করছি।
আমার বাবা অনেক সুন্দর বাউল গান করতেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের
সংগ্রহে তাঁর কোন অডিও বা ভিডিও নেই। বিষয়টি আমাকে ভীষণ
তাড়া করে। আর তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমার মৃত্যুর আগে
পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমার লেখা ও সুর করা অন্তত ১০০ (একশত) টি
মৌলিক গান বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করে যাবো। যা পরবর্তী
প্রজন্মের কাছে আমার কর্ম ও দর্শণকে বাঁচিয়ে রাখবে।
আমি মূলত মানুষ, মানবতা, জন্ম-মৃত্যু, প্রেম-ভক্তি ইত্যদি বিষয়গুলিকে
প্রাধান্য দিয়ে গান রচনা, সুরারোপ ও উপস্থাপন করার চেষ্টা করি।
সঙ্গীতভাবনা :
মানুষের মৃত্যুর পর পৃথিবীতে রেখে যাওয়ার মত তেমন কিছুই থাকে না,
যা থাকে তাহলো কিছু সৎ কর্ম, সম্মান এবং সৃষ্টিকর্ম। কর্মই
মানুষের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থেকে যায়। তাই নিজের লেখা, সুর ও সঙ্গীত
এরকম পক্ষে ১০০টি মৌলিক গান আমার পরবর্তী প্রজন্মেও জন্য রেখে
যেতে চাই।
সম্প্রতি প্রকাশনা :
সম্প্রতি লোকজ গানের জন্য তুমুল জনপ্রিয় শিল্পী রুনা বিক্রমপুরী
আমার লেখা ও সুরে ও জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক মান্নান মোহাম্মদ এর
কম্পোজিশনে “প্রেমের সুরসুরি” শিরোনামে একটি গান
গেয়েছেন। জনপ্রিয় শিল্পী রুমী খান গেয়েছেন “যার ব্যথা সে-ই
জানে”। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক মান্নান
মোহাম্মদ -এর কম্পোজিশনে আমারকথা ও সুরে “সুজন দেখে পিরীত কর
মন” শিরোনামে একটি অসাধারণ গান রিলিজ হয়েছে। গানটিতে  কণ্ঠ

দিয়েছেন চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজ -এর একজন জনপ্রিয় শিল্পী অপূর্ব
বাসনা, আশা রাখি, গানটি সকল দর্শকদেও ভালো লাগবে।
সঙ্গীতের বাইরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধ‚ শেখ মুজিবর রহমান -এর জীবন,
দর্শণ, খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার গল্পকে কেন্দ্র করে “খোকা”
শিরোনামে একটি এ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ
পর্যায়ে রয়েছে । “খোকা” শিরোনামের এ্যানিমেশন চলচ্চিত্রে শ্রদ্ধেয়
গুরু অলক দাশগুপ্তের সুর ও সঙ্গীত পরিচালনায় আমার একটি গান প্লেব্যাক
করার সুযোগ হয়েছে।
এ ছাড়াও KHAMOKH BAND MULTIMEDIA (খমখ ব্যান্ড মাল্টিমিডিয়া)
নামে আমার একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। চ্যানেলটির জন্যে আমার
লেখা ও সুরের প্রায় দশটি গানের কাজ চলমান রয়েছে। যার মধ্যে ৬টি
গানের ভিডিও ধারণের কাজ চলছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি